লঞ্চিং অফার — ঘরে বসে AI শিখুন ইবুকটিতে ৫০% ছাড় চলছে

দুর্গাপূজার ডিজাইন AI দিয়ে: শুভেচ্ছা কার্ড, অফার পোস্টার ও প্রোডাক্ট ফটোর ২০টি প্রম্পট

লিখেছেন Milton Haldar

সংক্ষেপে উত্তর

দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা কার্ড, অফার পোস্টার আর প্রোডাক্ট ফটো এখন ডিজাইনার ছাড়াই AI দিয়ে বানানো যায়। কৌশল তিনটি: প্রম্পটে পূজার নির্দিষ্ট প্রতীক লিখুন (ঢাক, কাশফুল, শিউলি, প্রদীপ, আলপনা), ছবিতে লেখা না রেখে ফাঁকা জায়গা চেয়ে নিন, আর বাংলা লেখা পরে Canva দিয়ে বসান। এ বছর মহালয়া ১০ অক্টোবর, ষষ্ঠী ১৭ অক্টোবর আর বিজয়া দশমী ২১ অক্টোবর, তাই ডিজাইনগুলো অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই তৈরি রাখুন। নিচে ২০টি রেডিমেড প্রম্পট আছে, তার চারটির সাথে সেই প্রম্পটেই বানানো আসল ছবি।

পূজার ডিজাইনে AI কোথায় সবচেয়ে কাজে লাগে

পূজার সময় সবার একসাথে ডিজাইন দরকার হয়: দোকানের অফার পোস্ট, ফেসবুক পেজের শুভেচ্ছা, অনলাইন শাড়ি ব্যবসার প্রোডাক্ট ছবি, পরিবারের জন্য বিজয়ার কার্ড। ডিজাইনারের কাছে তখন লম্বা লাইন, খরচও বেশি।

AI এখানে তিনটি কাজ সবচেয়ে ভালো করে: উৎসবের আবহসহ ব্যাকগ্রাউন্ড, সাজানো প্রোডাক্ট ছবি, আর একই স্টাইলের পুরো পোস্ট সিরিজ। যেটা এখনো ভালো পারে না, সেটা হলো ছবির ভেতরে নির্ভুল বাংলা লেখা। তাই এই লেখার প্রায় প্রতিটি প্রম্পটে লেখার জায়গা ফাঁকা রাখতে বলা আছে।

কবে কোন পোস্ট দেবেন: পূজার ক্যালেন্ডার ২০২৬

দিনতারিখযে ডিজাইন কাজে লাগবে
মহালয়া১০ অক্টোবর, শনিবারদেবীপক্ষের শুভেচ্ছা, কাউন্টডাউন সিরিজ শুরু
ষষ্ঠী১৭ অক্টোবর, শনিবারশুভ ষষ্ঠী পোস্ট, অফারের শেষ রিমাইন্ডার
সপ্তমী১৮ অক্টোবর, রবিবারশুভ সপ্তমী পোস্ট, প্যান্ডেলের আলোর ছবি
অষ্টমী১৯ অক্টোবর, সোমবারশুভ অষ্টমী পোস্ট, পরিবারের ছবি সম্পাদনা
নবমী২০ অক্টোবর, মঙ্গলবারধুনুচি নাচ বা সন্ধ্যার আবহের ছবি
বিজয়া দশমী২১ অক্টোবর, বুধবারবিজয়ার শুভেচ্ছা কার্ড

তারিখগুলো পঞ্জিকা অনুযায়ী। বাংলাদেশে সরকারি ছুটি সাধারণত বিজয়া দশমীর দিন থাকে, ছুটির সঠিক তালিকা সরকারি প্রজ্ঞাপনে মিলিয়ে নিন।

সময়ের হিসাবঅফার পোস্টার আর প্রোডাক্ট ছবি মহালয়ার আগেই তৈরি রাখুন, যাতে ক্রেতা কেনাকাটার সময় পান। শুভেচ্ছা পোস্টগুলো আগের রাতে শিডিউল করে দিন।

পূজার ডিজাইন প্রম্পটের ৫টি উপাদান

১. পূজার নির্দিষ্ট প্রতীক

“উৎসবের ছবি” লিখলে AI যেকোনো দেশের উৎসব বানাবে। পূজার আবহ আনে নির্দিষ্ট জিনিস: ঢাক, কাশফুল, শিউলি ফুল, মাটির প্রদীপ, ধুনুচি, আলপনা, গাঁদা ফুলের মালা, লাল পাড়ের সাদা শাড়ি।

২. রঙের নির্দেশ

পূজার চেনা রঙ লাল, কমলা, সোনালি আর সাদা। সর্বোচ্চ তিন থেকে চারটি রঙ বলে দিলে ডিজাইন গোছানো লাগে।

৩. লেখার জন্য ফাঁকা জায়গা

কোথায় লেখা বসবে তা প্রম্পটেই বলুন: “মাঝখানে বড় ফাঁকা জায়গা” বা “ওপরের অর্ধেক ফাঁকা”। নাহলে পরে লেখা বসানোর জায়গা পাবেন না।

৪. আলো

প্রদীপের উষ্ণ আলো, প্যান্ডেলের রঙিন আলোকসজ্জা বা শরতের বিকেলের সোনালি আলো। আলোই ছবিতে উৎসবের মেজাজ আনে।

৫. অনুপাত

ফেসবুক পোস্টে ১:১ বা ৪:৫, স্টোরি আর রিলে ৯:১৬, ফেসবুক কভারে প্রায় ১৬:৯। শুরুতেই বলে দিন।

সহজ সূত্র[পূজার প্রতীক] + [রঙ] + [ফাঁকা জায়গা] + [আলো] + [অনুপাত], আর শেষে লিখুন “ছবিতে কোনো লেখা রাখবে না”।

২০টি রেডিমেড প্রম্পট

প্রম্পটগুলো ChatGPT আর Gemini দুটোতেই চলে। [বন্ধনীর] জায়গায় নিজের তথ্য বসিয়ে নিন। চারটি প্রম্পটের নিচে ChatGPT দিয়ে বানানো আসল ছবি দেওয়া আছে, যাতে ফল কেমন হয় আগেই দেখতে পান।

১. শরতের ঢাক আর কাশফুল

শরৎকালের একটি খোলা মাঠ, চারদিকে সাদা কাশফুল বাতাসে দুলছে। সামনে একটি ঐতিহ্যবাহী ঢাক রাখা, ঢাকের গায়ে লাল-সাদা কাপড় আর পালক সাজানো।

আকাশ: গাঢ় নীল, তুলোর মতো সাদা মেঘ
আলো: বিকেলের সোনালি আলো, কাশফুলের ওপর আলো ঝলমল করছে
ক্যামেরা: নিচু কোণ থেকে, ঢাক সামনে স্পষ্ট, পেছনে কাশবন ঝাপসা
স্টাইল: বাস্তবধর্মী ফটোগ্রাফি, উৎসবের উষ্ণ রঙ
অনুপাত: ৩:২

ছবিতে কোনো লেখা রাখবে না।
কাশফুলের মাঠে সাজানো ঢাক, AI দিয়ে বানানো দুর্গাপূজার ছবি
ওপরের প্রম্পট হুবহু দিয়ে ChatGPT-তে বানানো ছবি

২. বিজয়া দশমীর শিউলি কার্ড

বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা কার্ডের জন্য একটি ন্যূনতম ডিজাইন।

উপাদান: নিচের কোনায় কয়েকটি শিউলি ফুল ঝরে পড়ে আছে, সাদা পাপড়ি আর কমলা বোঁটা স্পষ্ট
ব্যাকগ্রাউন্ড: হালকা ক্রিম কাগজের টেক্সচার
রঙ: সাদা, কমলা আর হালকা সোনালি, এর বাইরে কিছু নয়
ওপরের দুই-তৃতীয়াংশ: পুরো ফাঁকা, শুভেচ্ছার লেখা বসানোর জন্য
স্টাইল: নরম জলরঙের ছোঁয়া, প্রচুর ফাঁকা জায়গা
অনুপাত: ১:১

ছবিতে কোনো লেখা রাখবে না।
ক্রিম কাগজে ঝরে পড়া শিউলি ফুল, AI দিয়ে বানানো বিজয়ার কার্ড
ওপরের ফাঁকা জায়গায় Canva দিয়ে “শুভ বিজয়া” লিখে নিলেই কার্ড তৈরি

৩. প্রদীপের আলোয় শুভেচ্ছা পোস্ট

মাটির প্রদীপের সারি একটি কাঠের পাটাতনে জ্বলছে, পাশে গাঁদা ফুলের পাপড়ি ছড়ানো।

আলো: প্রদীপের উষ্ণ কমলা আলো, চারপাশ অন্ধকার, হালকা বোকেহ
ক্যামেরা: কাছ থেকে, চোখের সমতলে, প্রথম প্রদীপ স্পষ্ট
ফাঁকা জায়গা: ওপরের অর্ধেক অন্ধকার ও ফাঁকা, শুভেচ্ছার লেখা বসানোর জন্য
স্টাইল: বাস্তবধর্মী ফটোগ্রাফি
অনুপাত: ৪:৫

ছবিতে কোনো লেখা রাখবে না।

৪. ধুনুচি নাচের সন্ধ্যা

পূজামণ্ডপের সামনে সন্ধ্যায় ধুনুচি নাচের একটি মুহূর্ত। একজন মানুষের হাতে জ্বলন্ত ধুনুচি, চারপাশে ধোঁয়া ভাসছে, পেছনে ঢাকিরা ঢাক বাজাচ্ছেন।

আলো: ধুনুচির আগুনের আভা আর প্যান্ডেলের রঙিন আলো
ক্যামেরা: মাঝারি দূরত্ব থেকে, হালকা মোশন ব্লার, ধোঁয়ার টেক্সচার স্পষ্ট
স্টাইল: সিনেমাটিক ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফি
অনুপাত: ১৬:৯

প্রতিমা ফ্রেমের বাইরে রাখো। ছবিতে কোনো লেখা রাখবে না।

৫. শারদীয় শুভেচ্ছার অলংকরণ

শারদীয় শুভেচ্ছার জন্য একটি ফ্ল্যাট ইলাস্ট্রেশন।

উপাদান: নীল আকাশে সাদা মেঘ, নিচে কাশফুলের সারি, একপাশে একটি ঢাক, আকাশে উড়ন্ত কয়েকটি পাখি
রঙ: আকাশি নীল, সাদা, হালকা সোনালি
স্টাইল: সরল ফ্ল্যাট ইলাস্ট্রেশন, নরম গ্রেডিয়েন্ট, আধুনিক
ফাঁকা জায়গা: মাঝখানে লেখার জন্য পরিষ্কার জায়গা
অনুপাত: ১:১

ছবিতে কোনো লেখা রাখবে না।

৬. দোকানের অফার পোস্টারের ব্যাকগ্রাউন্ড

দুর্গাপূজার অফারের জন্য একটি পোস্টার ব্যাকগ্রাউন্ড।

উপাদান: ওপরের কোনায় ঝুলন্ত গাঁদা ফুলের মালা, নিচে প্রদীপ আর আলপনার নকশা
রঙ: গাঢ় লাল, কমলা আর সোনালি
মাঝখান: বড় ফাঁকা জায়গা, যেখানে পরে অফারের লেখা বসানো হবে
আলো: প্রদীপের উষ্ণ আলো, হালকা বোকেহ
স্টাইল: উৎসবমুখর বিজ্ঞাপনী ডিজাইন, পরিষ্কার ও আধুনিক
অনুপাত: ২:৩

ছবিতে কোনো লেখা, সংখ্যা বা অক্ষর রাখবে না।
গাঁদা ফুলের মালা আর প্রদীপসহ পূজার অফার পোস্টারের ব্যাকগ্রাউন্ড, AI দিয়ে বানানো
মাঝের ফাঁকা জায়গায় দোকানের নাম আর ছাড়ের হার বসিয়ে নিন

৭. রেস্টুরেন্টের পূজা স্পেশাল থালি

[রেস্টুরেন্টের নাম]-এর পূজা স্পেশাল থালির ছবি। একটি কাঁসার থালায় লুচি, আলুর দম, ছোলার ডাল, বেগুনি, পায়েস আর মিষ্টি সাজানো।

পরিবেশ: লাল-সাদা কাপড়ের ওপর থালা, পাশে একটি ছোট প্রদীপ আর গাঁদা ফুল
আলো: জানালার নরম আলো, খাবার থেকে হালকা ধোঁয়া উঠছে
ক্যামেরা: ৪৫ ডিগ্রি কোণ, খাবারের টেক্সচার স্পষ্ট
ফাঁকা জায়গা: বাম পাশে মেনুর দাম লেখার জায়গা
স্টাইল: উষ্ণ রঙের ফুড ফটোগ্রাফি
অনুপাত: ৪:৫

ছবিতে কোনো লেখা রাখবে না।

৮. পোশাকের দোকানের পূজা কালেকশন ব্যানার

[দোকানের নাম]-এর পূজা কালেকশনের ফেসবুক ব্যানার।

দৃশ্য: কাঠের হ্যাঙ্গারে ঝোলানো তিনটি শাড়ি আর দুটি পাঞ্জাবি, রঙ লাল, সোনালি আর অফ-হোয়াইট
ব্যাকগ্রাউন্ড: হালকা ক্রিম দেয়াল, ওপর থেকে ঝুলছে গাঁদা ফুলের মালা
আলো: উজ্জ্বল, নরম স্টুডিও আলো
ফাঁকা জায়গা: ডান পাশের এক-তৃতীয়াংশ ফাঁকা, অফারের লেখার জন্য
স্টাইল: আধুনিক ফ্যাশন বিজ্ঞাপনী ফটোগ্রাফি
অনুপাত: ১৬:৯

ছবিতে কোনো লেখা রাখবে না।

৯. মিষ্টির দোকানের পোস্ট

একটি মাটির হাঁড়িতে রসগোল্লা আর পাশে পিতলের থালায় সন্দেশ, নারকেল নাড়ু আর কাঁচাগোল্লা সাজানো।

পরিবেশ: কাঠের টেবিল, পেছনে ঝাপসা প্যান্ডেলের আলো
আলো: উষ্ণ সন্ধ্যার আলো, মিষ্টির গায়ে হালকা চকচকে ভাব
ক্যামেরা: ক্লোজ-আপ, ব্যাকগ্রাউন্ড ঝাপসা
স্টাইল: ফুড ফটোগ্রাফি, উষ্ণ রঙ
অনুপাত: ১:১

ছবিতে কোনো লেখা রাখবে না।

১০. ফেসবুক পেজের কভার ফটো

একটি ফেসবুক পেজের কভার ফটো, দুর্গাপূজার থিমে।

উপাদান: বাম আর ডান প্রান্তে কাশফুল আর শিউলি ফুল, নিচের দিকে আলপনার সরু বর্ডার
রঙ: সাদা, সোনালি আর হালকা লাল
মাঝখান: চওড়া ফাঁকা জায়গা, পেজের নাম বা অফার লেখার জন্য
স্টাইল: পরিষ্কার, মার্জিত গ্রাফিক ডিজাইন
অনুপাত: ১৬:৯

ছবিতে কোনো লেখা রাখবে না।

১১. শাড়ির ফ্ল্যাট লে প্রোডাক্ট ফটো

একটি লাল পাড়ের সাদা গরদ শাড়ি সুন্দর করে ভাঁজ করে রাখা, ওপর থেকে তোলা ফ্ল্যাট লে ছবি।

চারপাশে: গাঁদা ফুলের পাপড়ি, একটি পিতলের প্রদীপ, শাঁখা-পলা, একটি ছোট ধুনুচি
ব্যাকগ্রাউন্ড: হালকা ক্রিম রঙের কাপড়, কোনায় সাদা আলপনার নকশা
আলো: নরম প্রাকৃতিক আলো, কড়া ছায়া নেই
ক্যামেরা: ঠিক ওপর থেকে, শাড়ির পাড় আর বুনন স্পষ্ট
স্টাইল: পেশাদার ই-কমার্স প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি
অনুপাত: ১:১

ছবিতে কোনো লেখা রাখবে না।
লাল পাড়ের সাদা শাড়ি, প্রদীপ আর গাঁদা ফুলের ফ্ল্যাট লে, AI দিয়ে বানানো প্রোডাক্ট ফটো
নমুনা ছবি। নিজের শাড়ির আসল ছবি থাকলে ১৩ নম্বর প্রম্পট দিয়ে শুধু ব্যাকগ্রাউন্ড সাজান

১২. গয়নার প্রোডাক্ট ফটো

একটি সোনালি রঙের [গয়নার ধরন, যেমন ঝুমকা বা চুড়ি], লাল ভেলভেটের কাপড়ের ওপর রাখা।

পাশে: কয়েকটি গাঁদা ফুলের পাপড়ি আর একটি ছোট প্রদীপ, ঝাপসা
আলো: নরম স্টুডিও আলো, গয়নার গায়ে ঝলক
ক্যামেরা: ম্যাক্রো ক্লোজ-আপ, কারুকাজ স্পষ্ট
স্টাইল: জুয়েলারি প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি
অনুপাত: ৪:৫

ছবিতে কোনো লেখা রাখবে না।

১৩. নিজের প্রোডাক্টের ছবিতে পূজার সাজ

সংযুক্ত ছবির প্রোডাক্টটি হুবহু একই রেখে ব্যাকগ্রাউন্ড পূজার সাজে বদলে দাও।

নতুন ব্যাকগ্রাউন্ড: গাঁদা ফুলের মালা, মাটির প্রদীপ আর হালকা আলপনার নকশা, ঝাপসা
আলো: প্রোডাক্টের আসল আলোর সাথে মিলিয়ে দাও
ছায়া: প্রোডাক্টের নিচে বাস্তবসম্মত ছায়া
অনুপাত: ১:১

প্রোডাক্টের আকার, রঙ, লোগো বা লেখা একদম বদলাবে না।

১৪. পূজার গিফট হ্যাম্পার

একটি পূজার উপহারের ঝুড়ি: ভেতরে একটি ভাঁজ করা শাড়ি, মিষ্টির বাক্স, একটি পিতলের প্রদীপ আর ধূপকাঠি, ওপরে লাল ফিতা বাঁধা।

ব্যাকগ্রাউন্ড: হালকা সোনালি, সামনে কয়েকটি শিউলি ফুল
আলো: উজ্জ্বল নরম আলো
ক্যামেরা: সামান্য ওপর থেকে, পুরো ঝুড়ি ফ্রেমে
স্টাইল: পরিষ্কার ই-কমার্স ফটোগ্রাফি
অনুপাত: ১:১

ছবিতে কোনো লেখা রাখবে না।

১৫. নিজের ছবিতে প্যান্ডেলের আলো

সংযুক্ত ছবির মানুষটির মুখ, চুল আর পোশাক হুবহু একই রেখে পেছনে সন্ধ্যার পূজামণ্ডপের আলোকসজ্জা বসিয়ে দাও।

পটভূমি: রঙিন আলোর মালা আর ঝাপসা ভিড়, প্রতিমা দেখা যাবে না
আলো: মুখে প্যান্ডেলের উষ্ণ আলোর আভা, স্বাভাবিক
স্টাইল: বাস্তবধর্মী পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফি, ব্যাকগ্রাউন্ড ঝাপসা

মুখের গঠন বা চেহারায় কোনো পরিবর্তন করবে না।

১৬. পরিবারের ছবি থেকে জলরঙ চিত্র

সংযুক্ত পারিবারিক ছবিটিকে জলরঙের চিত্রে রূপ দাও।

মানুষ: সবার মুখ ও ভঙ্গি চেনা যায় এমনভাবে রাখো
চারপাশ: কোনায় হালকা কাশফুল আর শিউলি ফুলের জলরঙ নকশা যোগ করো
রঙ: নরম প্যাস্টেল, উষ্ণ টোন
স্টাইল: হাতে আঁকা জলরঙ, কাগজের টেক্সচার
অনুপাত: মূল ছবির মতোই

১৭. পুরোনো পূজার ছবি সংস্কার

সংযুক্ত পুরোনো পূজার ছবিটি সংস্কার করো।

কাজ: দাগ, ভাঁজ আর ঝাপসা ভাব সরাও, স্পষ্টতা বাড়াও
রঙ: সাদা-কালো হলে স্বাভাবিক রঙ যোগ করো, অতিরঞ্জিত নয়
মুখ: কারও মুখের গঠন বা বৈশিষ্ট্য একদম বদলাবে না

১৮. স্টোরির ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেসবুক স্টোরির জন্য একটি খাড়া ব্যাকগ্রাউন্ড, দুর্গাপূজার থিমে।

ওপরে: ঝুলন্ত গাঁদা ফুলের মালা আর রঙিন আলোর মালা
নিচে: আলপনার নকশা আর কয়েকটি প্রদীপ
মাঝখান: অনেকটা ফাঁকা, হালকা লাল থেকে সোনালি গ্রেডিয়েন্ট
স্টাইল: উৎসবমুখর, পরিষ্কার গ্রাফিক ডিজাইন
অনুপাত: ৯:১৬

ছবিতে কোনো লেখা রাখবে না।

১৯. রিলের কভার ছবি

একটি ফেসবুক রিলের কভার ছবি, বিষয়: [রিলের বিষয়, যেমন পূজার সাজ বা প্যান্ডেল ঘোরা]।

দৃশ্য: উজ্জ্বল প্যান্ডেলের আলোর সামনে একজন তরুণী বা তরুণ হাসিমুখে, উৎসবের পোশাকে
রঙ: উজ্জ্বল ও বৈপরীত্যপূর্ণ, মোবাইলে ছোট করে দেখলেও চোখে পড়ে
ফাঁকা জায়গা: ওপরের এক-তৃতীয়াংশ ফাঁকা, শিরোনামের জন্য
অনুপাত: ৯:১৬

ছবিতে কোনো লেখা রাখবে না।

২০. ষষ্ঠী থেকে দশমী: একই স্টাইলের পোস্ট সিরিজ

দুর্গাপূজার পাঁচ দিনের জন্য একই স্টাইলের পাঁচটি পোস্টের ব্যাকগ্রাউন্ড বানাবো। প্রথমটি বানাও: [ষষ্ঠী]।

স্টাইল: সরল ফ্ল্যাট ইলাস্ট্রেশন, প্রতিটিতে একটি মাত্র কেন্দ্রীয় উপাদান
এই ছবির উপাদান: [ষষ্ঠীতে ঢাক / সপ্তমীতে কাশফুল / অষ্টমীতে প্রদীপ / নবমীতে ধুনুচি / দশমীতে শিউলি ফুল]
রঙ: সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, লাল আর সোনালি উপাদান
ফাঁকা জায়গা: নিচের অর্ধেক, দিনের নাম লেখার জন্য
অনুপাত: ১:১

পরের ছবিগুলোতে শুধু উপাদান বদলাবে, স্টাইল, রঙ আর বিন্যাস হুবহু একই থাকবে। ছবিতে কোনো লেখা রাখবে না।

ছবিতে বাংলা লেখা বসাবেন কীভাবে

AI এখনো বাংলা যুক্তাক্ষর নির্ভুলভাবে আঁকতে পারে না। “শুভ বিজয়া” লিখতে বললে প্রায়ই ভাঙা বা ভুল অক্ষর আসে। তাই ছবি আর লেখা আলাদা করে করুন:

  1. ওপরের প্রম্পট দিয়ে ফাঁকা জায়গাসহ ছবি বানান।
  2. ছবিটি ডাউনলোড করে Canva-তে খুলুন।
  3. Text টুল দিয়ে “শুভ মহালয়া”, “শারদীয় শুভেচ্ছা” বা অফারের লেখা বসান। বাংলা ফন্টের মধ্যে Hind Siliguri পরিষ্কার দেখায়।
  4. লেখার রঙ ছবির প্রধান রঙের সাথে মিলিয়ে নিন, প্রয়োজনে লেখার পেছনে হালকা ছায়া দিন।

যে ৬টি ভুল এড়াবেন

  • প্রতিমার মুখ AI দিয়ে বানানো: দেবীর রূপ ভুল বা বিকৃত আসতে পারে, যা অনেকের অনুভূতিতে আঘাত দেয়। ঢাক, কাশফুল, প্রদীপের মতো প্রতীক দিয়েই পূজার আবহ আনুন।
  • ছবিতে বাংলা লেখা চাওয়া: লেখা পরে Canva দিয়ে বসান।
  • শুধু “পূজার ছবি” লেখা: নির্দিষ্ট প্রতীক আর রঙ না বললে ছবি সাধারণ হয়ে যায়।
  • প্রোডাক্টের রঙ বদলে যেতে দেওয়া: আসল শাড়ি বা গয়নার রঙ বদলে গেলে ক্রেতা ঠকবেন। প্রম্পটে “প্রোডাক্ট হুবহু একই রাখো” লিখুন আর প্রকাশের আগে মিলিয়ে দেখুন।
  • অন্যের তোলা প্রতিমা বা প্যান্ডেলের ছবি কপি করা: সেটি ফটোগ্রাফারের কাজ, অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করবেন না।
  • শেষ মুহূর্তে শুরু করা: ষষ্ঠীর দিন ডিজাইন শুরু করলে পোস্ট দেওয়ার সবচেয়ে ভালো সময়টাই পার হয়ে যায়।
সংবেদনশীলতাপূজা অনেকের কাছে ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়। মজার বা ব্যঙ্গাত্মক ছবিতে দেবীর রূপ ব্যবহার করবেন না। সব ধর্মের মানুষ যে শুভেচ্ছা নিশ্চিন্তে শেয়ার করতে পারেন, সেটাই সবচেয়ে বেশি ছড়ায়।
AI দিয়ে গ্রাফিক্স ডিজাইন ইবুকের কভার

পূজার পরেও সারা বছরের ডিজাইন

উৎসবের শুভেচ্ছা, অফার পোস্ট, প্রোডাক্ট ফটো, লোগো আর থাম্বনেইল বানানোর ১৯৪টি রেডিমেড প্রম্পট আছে AI দিয়ে গ্রাফিক্স ডিজাইন ইবুকে, প্রতিটার সাথে সেই প্রম্পটেই বানানো আসল ছবি। ২৭২ পাতা।

বইটির ভেতরে কী আছে দেখুন ›

সচরাচর জিজ্ঞাসা

পূজার ডিজাইন বানাতে কোন AI টুল ভালো?

ChatGPT আর Google Gemini দুটোই ভালো, আর দুটোরই ফ্রি ভার্সনে ছবি বানানো যায়, তবে দৈনিক সীমা আছে। নিজের ছবি বা প্রোডাক্টের ছবি বদলাতে দুটোতেই ছবি আপলোড করে কাজ করা যায়।

AI দিয়ে প্রতিমার ছবি বানানো কি ঠিক?

বানানো যায়, কিন্তু রূপ ভুল আসার ঝুঁকি বেশি, যা অনেকের কাছে আপত্তিকর লাগতে পারে। ব্যবসার পোস্টে ঢাক, কাশফুল, প্রদীপ বা আলপনার মতো প্রতীক ব্যবহার করাই নিরাপদ।

ছবিতে “শুভ বিজয়া” লেখা ঠিকমতো আসে না কেন?

AI মডেলগুলো জটিল বাংলা যুক্তাক্ষর এখনো ঠিকমতো আঁকতে পারে না। ফাঁকা জায়গাসহ ছবি বানিয়ে Canva দিয়ে লেখা বসানোই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

পূজার পোস্ট কবে থেকে দেওয়া শুরু করব?

শুভেচ্ছা পোস্ট মহালয়া (১০ অক্টোবর ২০২৬) থেকে শুরু করতে পারেন। অফার আর প্রোডাক্টের পোস্ট তার এক থেকে দুই সপ্তাহ আগে দিলে ক্রেতা কেনাকাটার সময় পান।

AI দিয়ে বানানো ছবি দোকানের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা যাবে?

সাধারণত যায়, তবে প্রতিটি টুলের নিজস্ব শর্ত আছে, ব্যবহারের আগে দেখে নিন। প্রোডাক্টের আসল রঙ বা চেহারা বদলে যাওয়া ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন দেবেন না।

আরও পড়ুন